ক্রিস্পি চিকেন ঘিরে ফাস্ট ফুড বাজারে নতুন যুদ্ধ

১৯৯৫ সালে জর্জিয়ার এক বিলবোর্ডে দেখা যায়, হাতে লেখা সাইনবোর্ড তুলে ধরেছে তিনটি গরু।

১৯৯৫ সালে জর্জিয়ার এক বিলবোর্ডে দেখা যায়, হাতে লেখা সাইনবোর্ড তুলে ধরেছে তিনটি গরু। সেখানে ছিল ‘ইট মোর চিকেন’, যা কিনা আরো বেশি মুরগি খাওয়ার বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন ‘চিক-ফিল-এ’-র সেই ক্যাম্পেইন বার্গারের বদলে মুরগির নাগেট ও টেন্ডার খাওয়াকে উৎসাহিত করেছিল। তিন দশক পর সে স্লোগান যেন আরো বাস্তব হয়ে উঠেছে।

গত বছর মার্কিন ফাস্ট ফুড বাজারে রেইজিং কেইনস ও উইংসটপের মতো মুরগিনির্ভর চেইন রেস্টুরেন্টগুলোই সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করেছে। গবেষণা সংস্থা সারকানার তথ্য অনুযায়ী, বার্গারকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকটাই পেছনে ফেলে প্রতিষ্ঠান দুটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ হারে।

ক্রিস্পি টেন্ডার ও নাগেটের প্রতি ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ম্যাকডোনাল্ড’স, টাকো বেল ও ওয়েন্ডিসের মতো বৃহৎ চেইন রেস্টুরেন্টগুলো মেনু পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হয়েছে এবং মুরগির মাংসভিত্তিক পণ্যে বিনিয়োগও বাড়িয়েছে।

ভোক্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকনোমিকের ঊর্ধ্বতন পরামর্শক ডেভিড হ্যাংকস বলেন, ‘মানুষ এখনো বার্গার ভালোবাসে। কিন্তু মুরগি খাদ্য হিসেবে বেশি বহুমুখী।’ তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুরগির প্রতি ঝোঁক বেশি, কারণ তারা একে লাল মাংসের তুলনায় স্বাস্থ্যকর বলে মনে করে। এমনকি মুরগির আইটেম ডুবো তেলে ভাজা থাকলেও তা নিয়ে ভোক্তারা খুব একটা চিন্তিত নয়।

আরো বড় কথা, নাগেট ও টেন্ডার বার্গারের তুলনায় সহজে খাওয়া যায় এবং এগুলোকে নিজের রুচি অনুযায়ী সস দিয়ে কাস্টোমাইজ করাও অনেক সহজ। হ্যাংকস বলেন, ‘স্যান্ডউইচের তুলনায় নাগেট-টেন্ডার অনেক বেশি নিজের পছন্দ অনুযায়ী তৈরি করে নেয়া যায়। বিশেষ করে, কোন সসের সঙ্গে খেতে ভালো লাগে, তা নিয়ে টিকটকে নিয়মিত পোস্ট করেন ভোক্তারা।’

উইংসটপের চিফ রেভিনিউ অফিসার মার্ক ক্রিস্টেনসন জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, জেন জিরা সস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসে। উইংসটপ প্রায় ডজনখানেক সস বিক্রি করেছে। এ গ্রুপের মধ্যে মুরগির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি আর এটাই প্রতিযোগীদের চেয়ে উইংসটপকে এগিয়ে রাখছে।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি টেন্ডারের জন্য আরো ক্রিস্পি কোটিং চালু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এ উদ্যোগ তরুণদের পছন্দ অনুযায়ী নেয়া। ‘এ বৈশিষ্ট্য উইংসটপের তরুণ গ্রাহকদের জন্য একদম উপযুক্ত,’ বলেন ক্রিস্টেনসন। তবে শুধু জেন জি নয়, মুরগি এখন সর্বজনগ্রাহ্য এক প্রোটিনের উৎস। ক্রিস্টেনসন বলেন, ‘আমি এখনো কাউকে দেখিনি যে মুরগি পছন্দ করে না।‘

ফাস্ট ফুডে মুরগির আইটেমের জনপ্রিয়তার আরো একটি বড় কারণ হলো ক্রিস্পি বা মচমচে টেক্সচারের প্রতি মানুষের দুর্বলতা। পরামর্শক সংস্থা মেনু ম্যাটার্সের জরিপ বলছে, ‘ক্রিস্পি’ ও ‘ক্রাঞ্চি’ শব্দ দুটি খাওয়ার পছন্দের ক্ষেত্রে শীর্ষে। এ কারণেই এখন অনেক চেইন তাদের পণ্যে ‘ফ্রাইড’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ক্রিস্পি চিকেন’ বলে প্রচার করছে। মেনু ম্যাটার্সের প্রেসিডেন্ট ম্যেভ ওয়েবস্টার বলেন, ‘ফ্রাইড শব্দটি যতটা না খারাপ, তার চেয়ে বেশি নিস্তেজ ও অপরাধবোধ জাগানো।’ তার মতে, খাওয়ার অভিজ্ঞতার সঙ্গে ক্রিস্পি শব্দটি ইতিবাচক আবেগ তৈরি করে।

গবেষণা সংস্থা ডাটাসেনশিয়ালের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে মার্কিন মেনুতে ‘ক্রিস্পি চিকেন’ শব্দের উল্লেখ ১৬ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রেস্তোরাঁর মেনুতে এ আইটেমের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এ সুযোগ কাজে লাগাতে পিছিয়ে নেই টাকো বেল। তারা তাদের পুরনো নাগেট পণ্যের বাজার আবারো পরীক্ষা করে দেখছে। এ পরীক্ষা সফল হলে ভবিষ্যতে আরো মুরগির আইটেম, এমনকি স্ট্রিপও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গেই টাকো বেলের মার্কেটিং প্রধান টেলর মন্টগোমেরি বলেন, ‘আমরা মুরগির বাজারে ঢুকছি এবং আমরা নিজস্ব ঢঙে পরিকল্পনা সাজাতে চাই। আমরা চাই, ক্রিস্পি চিকেন খাওয়ার জন্যও মানুষ টাকো বেলে আসুক।’

আরও